facebook icon
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা: আবেদন, ভিসা ও স্কলারশিপ গাইড
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা: আবেদন, ভিসা ও স্কলারশিপ গাইড

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা: ধাপে ধাপে আবেদন পদ্ধতি, স্টুডেন্ট ভিসা ও স্কলারশিপ সুবিধা

বিদেশে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তালিকায় প্রথম দিকেই আসে অস্ট্রেলিয়ার নাম। এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব দেশ হিসেবে পরিচিত। কিউএস ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং ২০২৫ অনুযায়ী শিক্ষার্থীবান্ধব শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় মেলবোর্ন (৫) ও সিডনি (৬) স্থান পেয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা: আবেদন, ভিসা ও স্কলারশিপ গাইড

শুধু সুন্দর ক্যাম্পাস বা উন্নত শিক্ষা নয়—এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা এবং পড়াশোনা শেষে থাকার পথ—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া অনেকের স্বপ্নের গন্তব্য। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হলে আবেগ নয়, দরকার সঠিক তথ্য, পরিষ্কার পরিকল্পনা আর বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি।

এই গাইডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার আবেদন পদ্ধতি, স্টুডেন্ট ভিসা, জীবনযাত্রার খরচ এবং স্কলারশিপ–সংক্রান্ত বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

পরামর্শের জন্য কল করুন: ০১৬১৫০০০১২৫

কেন অস্ট্রেলিয়া উচ্চশিক্ষার জন্য সেরা গন্তব্য?

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা, বাস্তবমুখী শিক্ষা এবং আধুনিক কারিকুলামের জন্য পরিচিত। তবে জনপ্রিয়তার কারণ শুধু একাডেমিক মান নয়। অনেকে মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে গেলে খরচ অনেক বেশি। বাস্তবে বিষয়টা এমন নয়। সঠিক কোর্স, শহর ও পরিকল্পনা বেছে নিলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আধুনিক কারিকুলাম
  • বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা:অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়মিত বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ অবস্থানে থাকে। আধুনিক কারিকুলাম, উন্নত গবেষণা সুবিধা ও আপডেটেড শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পায়।
  • বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শেখা: এখানকার শিক্ষা শুধু ক্লাসরুমে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবহারিক জ্ঞান, প্রজেক্ট ও ইন্ডাস্ট্রি-লিংকড লার্নিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হয়।
  • আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি: অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য। ফলে পড়াশোনা শেষে দেশ–বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ অনেক বেশি থাকে।
  • উন্নত ও নিরাপদ জীবনযাত্রা: নিরাপদ, বহুসাংস্কৃতিক ও শিক্ষার্থী-বান্ধব পরিবেশ অস্ট্রেলিয়ার বড় শক্তি। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ও জীবনমান শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করে।
  • পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ: স্টুডেন্ট ভিসায় নির্দিষ্ট সময় কাজ করার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজের খরচের একটি অংশ বহন করতে পারে এবং কাজের অভিজ্ঞতাও অর্জন করে।
  • আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক ব্যবস্থা: একাডেমিক সাপোর্ট, কাউন্সেলিং সার্ভিস এবং স্বাস্থ্য বীমা (OSHC)–এর মতো সুবিধা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করে।
  • পড়াশোনা শেষে স্থায়ী বসবাসের সম্ভাবনা: অনেক কোর্সে পড়াশোনা শেষ করার পর পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
  • শিক্ষার্থী-বান্ধব ভিসা নীতি: স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ এবং ঝামেলামুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সহজেই পরিকল্পনা করতে পারে।
পরামর্শ নিন

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সব বিশ্ববিদ্যালয় একরকম নয়। একেকটির একাডেমিক কারিকুলাম, কোর্স বৈচিত্র্য, IELTS চাহিদা এবং খরচের পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিচের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত ও জনপ্রিয় হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়
০১.

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (Australian National University)

Australian National University গবেষণা ও একাডেমিক মানের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। পাবলিক পলিসি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সায়েন্সভিত্তিক কোর্সে এর শক্ত অবস্থান রয়েছে। যারা গভীর জ্ঞান ও গবেষণামুখী শিক্ষায় আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ পছন্দ।

০২.

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় (University of Melbourne)

University of Melbourne বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। বিস্তৃত কোর্স নির্বাচন, স্ট্রং একাডেমিক সাপোর্ট এবং আংশিক স্কলারশিপের সুযোগ থাকায় ব্যাচেলর ও মাস্টার্স—দুই পর্যায়েই এর চাহিদা সবসময় বেশি থাকে।

০৩.

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় (University of Sydney)

University of Sydney তার ঐতিহ্য, শিক্ষা মান ও বৈচিত্র্যময় প্রোগ্রামের জন্য সুপরিচিত। ব্যবসা, মেডিসিন ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। শহরভিত্তিক খরচ বেশি হলেও ক্যারিয়ার এক্সপোজার তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

০৪.

নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় (UNSW)

UNSW মূলত ইন্ডাস্ট্রি-ফোকাসড শিক্ষার জন্য পরিচিত। ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি ও বিজনেস কোর্সে প্র্যাকটিক্যাল শেখার সুযোগ বেশি থাকায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে ভালোভাবে এগোতে পারেন।

০৫.

কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় (University of Queensland)

University of Queensland গবেষণা ও সায়েন্সভিত্তিক শিক্ষায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ব্রিসবেন শহরে অবস্থিত হওয়ায় লিভিং কস্ট তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত থাকে, যা সীমিত বাজেটের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবসম্মত সুবিধা এনে দেয়।

০৬.

মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় (Monash University)

Monash University তার বড় ক্যাম্পাস, কোর্স বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী-বান্ধব পরিবেশের জন্য পরিচিত। ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকলে আংশিক স্কলারশিপের সুযোগ পাওয়া যায়, যা অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সিদ্ধান্তকে সহজ করে।

০৭.

ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (University of Western Australia)

University of Western Australia পার্থ শহরে অবস্থিত হওয়ায় খরচ তুলনামূলক কম। ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স ও মাইনিং সংশ্লিষ্ট কোর্সে এর সুনাম রয়েছে, যে সব শিক্ষার্থীরা বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার খোঁজ করেন তাদের জন্য এটি আকর্ষণীয়।

০৮.

আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয় (RMIT University)

RMIT University প্র্যাকটিক্যাল ও স্কিলভিত্তিক শিক্ষার জন্য জনপ্রিয়। ডিজাইন, টেকনোলজি ও বিজনেস প্রোগ্রামে এর জোরালো অবস্থান রয়েছে। যারা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য এটি উপযোগী।

০৯.

নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয় (The University of Newcastle)

The University of Newcast খরচ, একাডেমিক মান ও কাজের সুযোগের মধ্যে একটি ভালো ভারসাম্য তৈরি করে। মাঝারি বাজেটের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে এটি ধীরে ধীরে একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ পছন্দ হয়ে উঠেছে।

১০.

কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় (Curtin University)

Curtin University ইন্ডাস্ট্রি-ওরিয়েন্টেড ও বাস্তবমুখী শিক্ষার জন্য পরিচিত। পার্থ শহরের সুবিধা, কোর্সের প্রয়োগমূলক দিক এবং কাজের সুযোগ—সব মিলিয়ে এটি অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য কার্যকর একটি অপশন।

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার আবেদন পদ্ধতি (Step-by-Step)

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার আবেদন পদ্ধতিটা শুনতে জটিল লাগলেও, ধাপে ধাপে করলে বিষয়টা সহজ হয়ে যায়। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমে উপযুক্ত কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ধাপ ১: কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন নিজের পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও বাজেট অনুযায়ী কোর্স বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ধাপ ২: ডকুমেন্ট প্রস্তুতি (আবেদন জমা দেওয়া) সাধারণত যা লাগে:

  • একাডেমিক সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট
  • IELTS/PTE স্কোর
  • SOP (Statement of Purpose)
  • CV (কিছু কোর্সে)

ধাপ ৩: অফার লেটার পাওয়া ডকুমেন্ট ঠিক থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় অফার লেটার দেয়। এটি কন্ডিশনাল বা আনকন্ডিশনাল হতে পারে।

ধাপ ৪: COE সংগ্রহ টিউশন ফি আংশিক বা সম্পূর্ণ পরিশোধের পর পাওয়া যায় COE (Confirmation of Enrolment)। এটি ছাড়া ভিসা আবেদন করা যায় না।

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য কি কি যোগ্যতা লাগে?

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হয়, তবে এগুলো কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণভাবে একাডেমিক সনদ, পূর্ববর্তী শিক্ষার ফলাফল, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা (যেমন IELTS), এবং কোর্স–সম্পর্কিত প্রস্তুতি বিবেচনা করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা ০১.

একাডেমিক যোগ্যতা

আপনি কোন লেভেলে পড়তে চান—ব্যাচেলর, মাস্টার্স নাকি ডিপ্লোমা—তার ওপর যোগ্যতা নির্ভর করে।

  • ব্যাচেলর: SSC ও HSC সম্পন্ন
  • মাস্টার্স: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি
  • ফলাফল মাঝারি হলেও অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ থাকে, যদি প্রোফাইল শক্ত হয়
০২.

ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা

IELTS স্কোর সাধারণত ৬.০–৬.৫ চাওয়া হয়। তবে কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে এটি ভিন্ন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কন্ডিশনাল অফারও দেওয়া হয়। সাধারণত প্রয়োজন হয়:

  • IELTS
  • PTE
  • TOEFL
০৩.

অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা

Statement of Purpose (SOP): আপনার লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ব্যাখ্যা করে।

  • Letter of Recommendation (LOR): সুপারিশপত্র।
  • CV/Resume: বিশেষত গবেষণার জন্য।
  • স্বাস্থ্য ও চরিত্র: মেডিকেল এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স।
  • আর্থিক স্বচ্ছলতা: টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য।

অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসা (Subclass 500): যা জানা জরুরি

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার জন্য মূল ভিসা হলো Student Visa Subclass 500। এই ভিসার জন্য আবেদন করার সময় কিছু বিষয় খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। ভিসার জন্য সাধারণত যেগুলো লাগে:

  • COE
  • বৈধ পাসপোর্ট
  • আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ
  • OSHC (Overseas Student Health Cover)
  • Genuine Student (GS) স্টেটমেন্ট

নোট: ভিসা অফিসার মূলত দেখতে চান—আপনি সত্যিই পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন কি না, আপনার আর্থিক পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত কি না, এবং পড়াশোনা শেষে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী।

অস্ট্রেলিয়ায় স্কলারশিপের ধরন: বাস্তব সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা

অনেকেই মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ায় স্কলারশিপ পেলেই পড়াশোনা সহজ। বাস্তবতা একটু ভিন্ন। স্কলারশিপ আছে, কিন্তু প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। বেশিরভাগ স্কলারশিপ আংশিক হয়। তাই স্কলারশিপ পেলেও নিজের আর্থিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি। শুধু স্কলারশিপের আশায় পুরো পরিকল্পনা আটকে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অস্ট্রেলিয়া সাধারণত তিন ধরনের স্কলারশিপ দিয়ে থাকে:

অস্ট্রেলিয়ায় স্কলারশিপের ধরন ০১.

সরকারি স্কলারশিপ (Government Scholarships)

এই স্কলারশিপগুলো সাধারণত খুবই প্রতিযোগিতামূলক, তবে কভারেজ শক্তিশালী।

অস্ট্রেলিয়া এওয়ার্ডস (Australia Awards) স্কলারশিপ

  • অস্ট্রেলিয়ান সরকার দ্বারা অর্থায়িত
  • সাধারণত টিউশন ফি, লিভিং কস্ট, ট্রাভেল খরচ কভার করে
  • বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য
  • কোর্স শেষে দেশে ফিরে আসার শর্ত থাকে

ডেস্টিনেশন অস্ট্রেলিয়া (Destination Australia) স্কলারশিপ

  • আঞ্চলিক (Regional) বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য
  • বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেয়
  • আঞ্চলিক এলাকায় স্টাডি উৎসাহিত করাই মূল লক্ষ্য
০২.

বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্কলারশিপ (University Scholarships)

এগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া যায় এবং বেশিরভাগই partial scholarship

University of Melbourne Scholarships

  • International Student Scholarship
  • সাধারণত 25%–50% টিউশন ফি ছাড়
  • ভালো একাডেমিক রেজাল্ট থাকলে সুযোগ বেশি

Monash University Scholarships

  • Merit-based আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ
  • আংশিক টিউশন ফি কভার
  • স্ট্রং SOP ও একাডেমিক প্রোফাইল গুরুত্বপূর্ণ

University of Sydney International Scholarships

  • নির্দিষ্ট কোর্সে টিউশন ফি রিডাকশন
  • স্কলারশিপ সংখ্যা সীমিত

নোট: প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ রুলস আলাদা এবং বছরে পরিবর্তন হতে পারে।

০৩.

যোগ্যতা ও প্রয়োজনভিত্তিক স্কলারশিপ

এই ক্যাটাগরিটি বুঝে নেওয়া খুব জরুরি, কারণ এখানেই অনেক শিক্ষার্থী বিভ্রান্ত হয়।

মেধা-ভিত্তিক স্কলারশিপ

  • একাডেমিক রেজাল্ট, GPA, IELTS স্কোরের উপর নির্ভর করে
  • ভালো রেজাল্ট থাকলে আর্থিক অবস্থা যাই হোক সুযোগ পাওয়া যায়
  • বেশিরভাগ University Scholarship এই ক্যাটাগরিতে পড়ে

উদাহরণ:

  • উচ্চ জিপিএ-ভিত্তিক টিউশন ফি মওকুফ (High GPA-based tuition fee waiver)
  • একাডেমিক এক্সিলেন্স স্কলারশিপ (Academic excellence scholarship)

প্রয়োজনভিত্তিক স্কলারশিপ (Need-based Scholarships)

  • শিক্ষার্থীর আর্থিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে
  • সাধারণত ফাইন্যান্সিয়াল ডকুমেন্ট, পারিবারিক ইনকাম প্রমাণ লাগে
  • অস্ট্রেলিয়ায় তুলনামূলকভাবে সীমিত

বাস্তবতা: প্রয়োজনভিত্তিক (Need-based) স্কলারশিপ অস্ট্রেলিয়ায় খুব কম এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আংশিক সহায়তা দেয়।

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার আনুষঙ্গিক খরচ

গড় হিসেবে একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার বার্ষিক মোট খরচ প্রায় 30–45 লাখ টাকা হতে পারে। শহর, লাইফস্টাইল ও কোর্স অনুযায়ী এই খরচ কম-বেশি হয়। নিচে সম্ভাব্য বার্ষিক খরচের একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া হলো।

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার খরচ
খরচের ধরন বিবরণ আনুমানিক বার্ষিক খরচ (BDT)
টিউশন ফি কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে 18,00,000 – 35,00,000
থাকা ও খাবার বাসা ভাড়া, খাবার, ইউটিলিটি 12,00,000 – 20,00,000
স্বাস্থ্য বীমা (OSHC) বাধ্যতামূলক স্টুডেন্ট কভার 60,000 – 1,20,000
পরিবহন খরচ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট 40,000 – 80,000
বই ও স্টাডি উপকরণ বই, নোটস, অনলাইন রিসোর্স 50,000 – 1,00,000
মোবাইল ও ইন্টারনেট সিম, ডেটা, ইন্টারনেট 30,000 – 50,000
ব্যক্তিগত খরচ দৈনন্দিন ও জরুরি ব্যয় 50,000 – 1,00,000
স্টুডেন্ট ভিসা ফি* একবারই দিতে হয় 80,000 – 1,00,000
মেডিকেল পরীক্ষা* ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় 15,000 – 25,000
এয়ার টিকিট* যাওয়া-আসা (প্রথম বছর) 1,00,000 – 1,80,000

নোট: খরচ আসলে সবার জন্য এক রকম হয় না। কোন শহরে পড়বেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয় ও কোন কোর্স বেছে নেবেন তার ওপর মোট খরচ অনেকটাই নির্ভর করে। সঠিক খরচ জানতে আমাদের পরামর্শদাতার সাথে কথা বলুন ০১৬১৫০০০১২৫

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ ও পড়াশোনা শেষে সুযোগ

স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পার্ট-টাইম কাজ করার সুযোগ থাকে। এতে করে নিজের খরচের একটি অংশ মেটানো সম্ভব হয়, তবে পুরো খরচ চালানো বাস্তবসম্মত নয়।

পড়াশোনা শেষে অনেক কোর্সে Post-Study Work Visa পাওয়ার সুযোগ থাকে। এটি অস্ট্রেলিয়ায় থেকে কাজের অভিজ্ঞতা নেওয়ার একটি বড় সুযোগ, যা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য কেন সানজেন এডু লিমিটেড কে বেছে নিবেন?

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত শুধু আবেদন জমা দেওয়ার বিষয় নয়—এটি সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তব গাইডলাইনের উপর নির্ভর করে। সানজেন এডু লিমিটেড বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা, যা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের নির্ভরযোগ্যভাবে পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা পরামর্শদাতা

শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল বুঝে কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ডকুমেন্ট প্রস্তুতি এবং ভিসা প্রসেসে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল সহায়তা দেয়। প্রায় ১৭ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়াশোনার জন্যসঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছি।

এখনই কল করুন: ০১৬১৫০০০১২৫

সানজেন এডু লিমিটেডের সাথে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করুন

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিঃসন্দেহে একটি বড় সিদ্ধান্ত। সঠিক পরিকল্পনা মানেই শুধু আবেদন নয়, বরং ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করা। আবেগ নয়, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই আপনাকে সঠিক পথে এগিয়ে নেবে। সানজেন এডু লিমিটেড বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল অনুযায়ী কোর্স নির্বাচন, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ভিসা প্রস্তুতি ও বাস্তব বাজেট পরিকল্পনায় দায়িত্বশীল গাইডলাইন দেয়।

স্বচ্ছ পরামর্শ ও অভিজ্ঞ টিমের সহায়তায় আপনার অস্ট্রেলিয়া যাত্রা হোক আত্মবিশ্বাসী ও সুশৃঙ্খল। যদি আপনি সত্যিই অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার স্বপ্ন দেখেন, তাহলে আজই নিজের প্রোফাইলটা বাস্তবভাবে যাচাই করা শুরু করুন—সেটাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

আজই যোগাযোগ করুন

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা নিয়ে সচরাচর প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা (Subclass 500) ফি সময়ে সময়ে আপডেট হয়। সাধারণভাবে ভিসা ফি ছাড়াও মেডিকেল, স্বাস্থ্য বীমা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ ধরতে হয়। তাই মোট ভিসা-সম্পর্কিত খরচ আগে থেকেই জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অস্ট্রেলিয়ার “সেরা” বিশ্ববিদ্যালয় সবার জন্য এক নয়। ANU, Melbourne, Sydney, Monash বা UNSW—প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিশেষত্ব রয়েছে। কোর্স, বাজেট ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই সঠিক বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

হ্যাঁ, দ্বাদশ পাস করার পর অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করা সম্ভব। সাধারণত ব্যাচেলর ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করা যায়। একাডেমিক ফলাফল ও ইংরেজি দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবমুখী ও গবেষণাভিত্তিক। এখানে শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং ব্যবহারিক দক্ষতা, প্রজেক্ট ও ইন্ডাস্ট্রি-লিংকড শেখার ওপর জোর দেওয়া হয়, যা শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করে।

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার মোট খরচ নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স ও শহরের ওপর। সাধারণভাবে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, স্বাস্থ্য বীমা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বার্ষিক একটি বড় অংকের বাজেট প্রস্তুত রাখতে হয়। সঠিক পরিকল্পনা করলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

কিছু ক্ষেত্রে IELTS ছাড়াও আবেদন করা যায়। বিকল্প ইংরেজি টেস্ট, আগের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার প্রমাণ বা পাথওয়ে প্রোগ্রামের মাধ্যমে সুযোগ থাকতে পারে। তবে এটি পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে নির্ভর করে।

হ্যাঁ, স্কলারশিপ না পেলেও ভিসা পাওয়া সম্ভব। স্কলারশিপ ভিসার বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। তবে নিজের টিউশন ও জীবনযাত্রার খরচ বহনের মতো আর্থিক সামর্থ্য প্রমাণ করা জরুরি।

ভিসা রিজেকশনের সাধারণ কারণের মধ্যে রয়েছে অসম্পূর্ণ বা ভুল ডকুমেন্ট, দুর্বল Genuine Student স্টেটমেন্ট, আর্থিক পরিকল্পনার অস্পষ্টতা এবং কোর্স নির্বাচনে অসংগতি। সঠিক গাইডলাইন অনুসরণ করলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

Other pages you may be interested in...

Learn how to get a scholarship in Australia from Bangladesh. Step-by-step guide, CGPA requirements, and expert help from Sangen Edu Ltd. Call us +880-1615-0001255.

The Swedish scholarship for Bangladeshi students covers tuition, living support, and travel grants. Learn the top options, requirements, and apply with Sangen.

Study at Uppsala University in Sweden from Bangladesh. Get world-class education, English-taught programs, scholarships, and global career opportunities.

Our customers love us!

See All

4.99 out of 269 reviews

Recently Completed Jobs

See All

Lakshmipur, BD

With the support of Sangen Edu., Saiful Islam successfully obtained a full scholarship covering 100% of his tuition fees for the Diploma Engineering ( Diploma Leading to Bachelor ) for International Leadership at Griffith College in Australia. From t...

Dhaka, BD

We managed the entire application process, collecting all the required information for him. He was admitted to the Kaplan Business School in Australia to study Bachelor of Business (Management).

Tangail, BD

By collecting and applying the necessary information on his behalf, our team facilitated his admission to the LLM Laws at the University of South Wales, UK.